নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হাতিটির উন্নত চিকিৎসা শুরু হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নির্দেশে গুরুতর আহত হাতিটির উন্নত চিকিৎসা শুরু হয়েছে। হাতিটির প্রাণ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চলছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে লোহাগাড়া উপজেলায় ঘটনাস্থলে যায় একটি রিলিফ ট্রেন। ক্রেন দিয়ে আহত হাতিটিকে ট্রেনে তুলে নেওয়া হয়েছে পার্শ্ববর্তী কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় ডুলাহাজরা শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সাফারি পার্কে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ভেটেরিনারি হাসপাতাল আছে। সেখানে হাতির চিকিৎসার জন্য আলাদা শেডও আছে। সেখানে আহত হাতিটির চিকিৎসা চলবে। মাননীয় উপদেষ্টা নির্দেশনা দিয়েছেন হাতিটির সর্বোচ্চ সুচিকিৎসার বিষয়ে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি সেটিকে বাঁচানোর এবং সুস্থ করে তোলার।
এর আগে ১৩ অক্টোবর রাতে লোহাগাড়া উপজেলার সংরক্ষিত চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের উত্তরে দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইনে চট্টগ্রামমুখী ট্রেনের ধাক্কায় হাতিটি গুরুতর আহত হয়।
হাতিটির পেছনের ডান পা ভেঙ্গে গেছে, মাথায় এবং মেরুদণ্ডে গুরুতর জখম হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই বন বিভাগের কর্মকর্তারা সেখানে যান। ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক থেকে চিকিৎসক এনে ব্যাথানাশক ইনজেকশন ও বিভিন্ন ওষুধ খাইয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সোমবার রাতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে হাতিটির উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্সেস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বিবেক চন্দ্র সূত্রধরের নেতৃত্বে একটি টিম গঠনের কথা জানানো হয়।
বন বিভাগের ভাষ্য, রেললাইনের যে অংশে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি হাতি পারাপারের স্থান। সংলগ্ন পুরো এলাকা হাতির বিচরণক্ষেত্র। দলবেঁধে ওই এলাকায় বিচরণের সময় ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী হাতিটি দলছুট হয়ে রেললাইনের ওপর এসে পড়ে এবং ট্রেনের ধাক্কায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
চুনতি অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, দুর্ঘটনাস্থল চুনতি অভয়ারণ্য এলাকার রাস্তার পরিস্থিতি খারাপ থাকায় আহত হাতিকে উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। পরে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের সহায়তায় আজকে ভোর ৪টা থেকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে হাতির মেরুদণ্ডের হাড়ে দুইটি ভাঙন নিশ্চিত করা গেলেও পরবর্তীতে আরো ভাঙনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তাই ক্রেনের মাধ্যমে অধিক সাবধানতায় উদ্ধারকারী ট্রেনে উঠানো হয়। এ সময় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লোকজন উপস্থিত ছিল।
হাতিটির শারিরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডুলাহাজরা সাফারি পার্কের ভেটেনারি কর্মকর্তা জুলকার নাইন বলেন, চলন্ত ট্রেনের সাথে ধাক্কা খেয়ে হাতিটির মাথায়, ডান পা ও মেরুদণ্ডে তিনটি অংশে ভাঙনের অস্তিত্ব দেখা গিয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে চার জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে আনা হচ্ছে। সর্বাত্মক চেষ্টা মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে তবে হাতিটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই কম।
