শনিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৫
spot_img

এক বছরে ৩২,৭৫,৬২৭ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং চট্টগ্রাম বন্দরে

মোহাম্মদ জাহেদ উল্লাহ চৌধুরী: বাংলাদেশের লাইফলাইন খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দর কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে রেকর্ড করেছে। ২০২৩ সালের তুলনায় কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ে ৩ দশমিক ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বন্দরকে জনবান্ধব করার জন্য স্বচ্ছতা, ন্যায় ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে কাজ করারর কথা জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের শহীদ ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে সর্বোচ্চ সংখ্যক কন্টেইনার, কার্গো হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৪ সালে (১ জানুয়ারী-৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত) চট্টগ্রাম বন্দরে ৩.২৭ মিলিয়ন টিইইউএস (৩২,৭৫,৬২৭ টিইইউস) কন্টেইনার, ১২৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন (১২,৩৯,৮৬,০১৪ মেঃ টন) কার্গো ও ৩৮৬৭ টি জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এ ৭.৪২% ও কার্গো হ্যান্ডলিং এ ৩.১১% প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
বন্দর নানা সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, গত সরকারের আমলে বন্দর নানা সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি ছিল। সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ নিয়েও আমরা সফল হয়েছি। যার ফলে বন্দরের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
বন্দর চেয়ারম্যান বে-টার্মিনাল প্রকল্পে আগামী মাসে (মার্চে) সুখবর আসার কথা বলেন। তিনি বলেন, বে-টার্মিনাল বাংলাদেশের গেম চেঞ্জার প্রকল্প। এটি নিয়ে আমাদের কাজ চলমান আছে। আশা করছি, আগামী মাসের মাঝামাঝি এ প্রকল্প নিয়ে সুখবর আছে। বন্দরের নিরাপত্তা ও অপারেশনের বিষয়ে খুবই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। গতকালও (বুধবার) আমরা কিছু ছিঁচকে চোর ধরেছি। আপনারা জানেন বন্দরে চুরি করা এতো সহজ কোনো বিষয় না। এরপরও কিছু চোর গাড়ির নিচে ঝুলে বন্দরে প্রবেশের অপচেষ্টা করে। এমনিতেই বন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ নেই। তবু আমরা আইএসপিএসের মাধ্যমে কমপ্লাইন্স আরও স্ট্রং (জোরদার) করেছি।
অপারেশনের গতি বাড়ানো প্রসঙ্গে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, বন্দরের আউটারে জাহাজ ফেলে রাখার একটা প্রবণতা আছে। এটা কেন তা আমি বুঝি না! সকল পণ্যের সাপ্লাই চেইনে বিঘ্ন না ঘটা, বাজারে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং বন্দরের কার্যক্রম নিরবিচ্ছিন্ন রাখা ও নিরাপদ নৌ চলাচলের স্বার্থে মালামাল লোড করার পর লাইটার জাহাজকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পোর্ট লিমিট ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় চট্টগ্রাম বন্দর আইন ও আইএসপিএস কোড অনুযায়ী প্রযোজ্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রমজানে পণ্য নিয়ে কৃত্রিম সংকট রোধে সাংবাদিকদের আহ্বান জানিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা থাকে তা পর্যাপ্ত আমদানির তথ্য আমাদের কাছে আছে। আমরাও শিডিউলিংয়ের মাধ্যমে বন্দরের পরিবহন আরো গতিশীল করছি। রমজানে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের কৃত্রিম সংকট যেন সৃষ্টি করতে না পারে, আপনারা সেদিকে নজর রাখবেন। আমরা বন্দরের অভ্যন্তরে ও আউটারে কোনো জট যেন না হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করছি।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধি মানে দেশের প্রবৃদ্ধি। বন্দরের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ, বহুমুখীকরণ ও সুবিধাদি বৃদ্ধিকরণে বর্তমান সরকার যুগোপযুগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জুলাই আগস্ট বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে বন্যা সংগঠিত হয়। ইন্টারনেট অব্যাহতভাবে সচল ছিল না। বিপ্লব চলাকালীন সময়ে ইন্টারনেট সচল না থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর ২০২৪ সালে রেকর্ড পরিমাণ ৩২,৭৫,৬২৭ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করে।
তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আসা জাহাজকে এখন আর আগের মত বহিঃনোঙরে অপেক্ষা করতে হয় না। বর্তমানে গিয়ারলেস এবং গিয়ারড ভেসেল সমন্বয় করে শতভাগ জেটি বা বার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে যাতে যে কোনো জাহাজ এলে সহজে ভিড়তে পারে। আগে তুলনামূলকভাবে ছোট জাহাজ আসত। একটা জাহাজে ৮০০-১২০০ কনটেইনার বহন করত। এখন আমরা আমদানীকারকগণকে সিসি অ্যাগ্রিমেন্ট এর মাধ্যমে ম্যাক্সিমাম ক্যাপাসিটির জাহাজ আনতে উদ্বুদ্ধ করি। ফলে বড় জাহাজে অনেক বেশি কার্গো আসে। এজন্য জাহাজের সংখ্যা কমছে, ক্যাপাসিটি বেড়েছে। খরচ কমেছে, ব্যবস্থাপনায় পেয়েছে গতি।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ভেতরে অনেক কনটেইনার দীর্ঘদিন যাবৎ পড়ে ছিল, সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে। চারটি ট্যাংকারে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল দাহ্য পদার্থ আইনি জটিলতায় দীর্ঘদিন পড়ে ছিল, যেগুলো যে কোনো সময় বিস্ফোরণ হতে পারত। এটা দ্রুততম সময়ে সরিয়ে ফেলি। অল্প সময়ে এটা অকশনের ব্যবস্থা করি, ফলে সরকার রাজস্ব পেয়েছে। বন্দর এখন বিপদজ্জনক কার্গো থেকে ঝুঁকিমুক্ত। ১২০টি রিফার কনটেইনার (শিপিং কনটেইনার) প্রায় ৯ মাস ধরে প্লাগ-ইন ছিল। এগুলোর মাধ্যমে মাংস এবং ফলমূল বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পড়ে থাকার ফলে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এগুলো ডিসপোজ করা কঠিন ছিল। পাশাপাশি পরিবেশের ছাড়পত্রের ব্যাপার ছিল। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় সেগুলো ডিসপোজ করি।তিনি বলেন, কনটেইনার হ্যান্ডেলিং স্পিড এসেছে। জেনারেল কার্গোর অতীতের রেকর্ড ভাঙতে সক্ষম হয়েছি। প্রায় ১২৯ মিলিয়ন মেট্টিক টন জেনারেল কার্গো হ্যান্ডেলিং করেছি।

সর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সাহা

পূর্বকাল ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক...

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক...

পাঠ্যপুস্তক

রতন চন্দ্র পাল, অতিথি লেখক: মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ...

ইজারাদারদের দাবি, সাতকানিয়া দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের

অনলাইন ডেস্ক: সাতকানিয়ার দেওয়ানহাট বাজার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিতকরণের দাবী...

সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা

সাতকানিয়া প্রতিনিধি : দীর্ঘ অর্ধ যুগের বেশি সময় পর...
spot_img