রামগড় প্রতিনিধি : জমিসংক্রান্ত এবং আর্থিক বিরোধের জেরে খাগড়াছড়ির রামগড়ে পূর্ব বাগানটিলায় দাদি ও ফুফুকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার ছয়দিন পর নাতি সাইফুল ইসলাম (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফেনীর ছাগলনাইয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসব কথা জানান খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল।
পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিন আসামী সাইফুল তার দাদির বাড়িতে এসে টাকা চাইলে ভিকটিমদ্বয় তাকে গালমন্দ করেন। এরপর আসামি না খেয়ে দাদির ঘরে শুয়ে থাকে এবং হত্যার পরিকল্পনা করে। রাত গভীর হলে আসামির দাদি ও ফুফু পার্শ্ববর্তী দুটি কক্ষে ঘুমিয়ে গেলে আসামি দাদির ঘরে থাকা বাঁশ কাটার দা দিয়ে প্রথমে ফুফু রাহেনা আক্তারের গলায় সজোরে কোপ দিয়ে হত্যা করে। এরপর দাদিকেও একইভাবে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা এবং ভিকটিম রাহেনার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন যা আসামি হত্যাকাণ্ডের পর নিয়ে গিয়ে চট্টগ্রাম জেলার ভূজপুর থানার দাঁতমারা ইউনিয়নের ইসলামপুর বাজারের দোকানদার নুরুল আলমের নিকট ৪০০ টাকায় বিক্রি করে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার নিহত রাহেনা আক্তারের ছেলে মো. হাসান বাদী হয়ে রামগড় থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ নিহতের নাতি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে ২০ আগস্ট রাতে নিজ বাড়িতে খুন হয় মা ও মেয়ে। বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, রাতে রামগড় পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বাগানটিলা প্রত্যন্ত এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘরের দরজা খোলাই ছিল। রাতের কোনো এক সময় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে খুনি পালিয়ে যায়। মাটির তৈরি ঘরের তিনটি কক্ষের দুটিতে মা ও মেয়ের মরদেহ পড়েছিল খাটের ওপর। মশারিও টানানো ছিল। অপর কক্ষে খাটে মশারি টানানো দেখা গেলেও রাতে সেখানে কে ছিল তা জানা যায়নি। বৃদ্ধা আমেনা বেগম (৮৮) ও তার মেয়ে রাহেনা (৪০) কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের জবাই করে হত্যা করা হয়।
